Your shopping cart is empty Log in
| About Boi Mela | Customer Service | Contact
 HomeAdvanced SearchNew BooksPublisher List

 Download Free Books
 
 Boi Mela 2012 Books
 
 Download Free Textbooks
 
 English Titles
 
 Top #100 Bestsellers
 
 Authors List
Humayun Ahmed
Qazi Anwar Husain
Imdadul Haq Milon
Muntassir Mamoon
Muhammed Zafar Iqbal
Rakib Hassan
 See all Authors...
 
 Category Listing
Novels
Children
Reference
Poetry
Stories
Biography
Essays
Muktijuddho
History
Science
 See all Categories..
 
 Publisher List
Anannya
Mowla Brothers
Somoy Prokashon
Oitijjhya
Annyaprokash
 See all Publishers...


  Information
Shipping Information
Payment Options
Order Tracking
Privacy & Security
Our Friends
 Help Us

Google
Web Boi Mela


Banglapedia Articles
Banking System (Pre-modern)
Basement
Drug
Patuya Sangit
Sweet Potato
Tin Tentulya

Hosting by ANC

Boi-Mela.com is hosted by Alpha Net's Web Hosting in Bangladesh. Alpha Net is the leading Web Hosting company in Bangladesh offering low cost Linux Hosting, ASP.NET Hosting, VPS, & Dedicated Servers for over 15 years.

Looking for Homes for Sale in the USA?

Are you looking to find a Martial Arts School around you? Try dojos.info. There are over 30 thousand Martial Arts Schools that you can search by location, style, name etc. For Canada, see dojos.ca and dojos.com.au for Australia.

For Martial Arts Schools in UK, try UK's Dojo Directory.

 

 

 


Narira / নারীরা
-
Narira By:Syed Shamsul Haque Book Type: Novels
 
Book Code 6749
Publisher Biddyaprokash / বিদ্যাপ্রকাশ
Book Type Novels [+]
Published November, 2001
ISBN 9844221402
Page 88
Language Bangla
Binding Hardcover
Price Tk. 50.00
   
বইটি বাংলায় দেখুন
Sorry, not in Stock
   

This book is one of our bestsellers! It has been sold #8 copies.

DBBL Nexus

More books from the Author

Premer Gorbher Jole Noy Mash, Bhumishtho Hoyechi By:Syed Shamsul Haque Joubon O Onnanno Jibon By:Syed Shamsul Haque Barodiner Shishu By:Syed Shamsul Haque Tantan By:Syed Shamsul Haque Premer Kobita [SSH] By:Syed Shamsul Haque

Premer Gorbher Jole Noy Mash, Bhumishtho Hoyechi

Joubon O Onnanno Jibon

Barodiner Shishu

Tantan

Premer Kobita [SSH]

These books are for Free!!!

Class IV Bangla By:NCTB Authors Class IV Christian Religious Studies By:NCTB Authors Class IV Hindu Religious Studies By:NCTB Authors Class VI  Anandapath Bangla Drutopathon By:NCTB Authors Schooler Nam Pothochari By:Muhammed Zafar Iqbal

Class IV Bangla

Class IV Christian Religious Studies

Class IV Hindu Religious Studies

Class VI Anandapath Bangla Drutopathon

Schooler Nam Pothochari
Description:
সৈয়দ শামসুল হকের 'নারীরা' প্রসঙ্গ ভাতের দাসী ও মানবিকতা
পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীকে নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করে আবার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে তাকে নিক্ষেপ করে অাঁস্তাকুড়ে। সতীশের লাশের পাশে ক্রন্দনরতা নারীদের পরিচয় দিতে গিয়ে যে বর্ণনা দেয়া হয়, ঔপন্যাসিক ঠিক সেই বক্তব্য সমর্থন করতে পারেন না। তাই তিনি লেখেন : 'নষ্ট বেটিছাওয়া? এই তো একটু আগেই ইদ্রিসচাচা আমাদের বলেছেন, ওরা সকল ভাতের দাসী। এখন জ্যাঠা সাহেব বলছেন, নষ্ট বেটিছাওয়া! টিউবওয়েল নষ্ট হয়, ঘড়ি নষ্ট হয়, সাইকেল নষ্ট হয়, মেয়েমানুষ নষ্ট হয় করে?' নারী সমাজ সম্পর্কে পুুরুষবাদী সমাজের একজন প্রান্তিক প্রতিনিধি কৃষকের অভিব্যক্তির সাথে সৈয়দ হক নারীর যাপিত জীবনের চিত্রের শ্লেষ উপস্থাপন করেছেন অত্যন্ত শিল্পসফলভাবে
ষ অনুপম হাসান

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের এক নির্মম স্মৃতি আজো রয়ে গেছে জলেশ্বরীতে : 'সেই দ্বিতীয় মহাযুদ্ধকালে জলেশ্বরীতে বেশ্যাপল্লী বসেছিলো, যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে, ইংরেজ চলে গেছে, পাকিস্তান হয়েছে, পাকিস্তানও শেষ হয়ে গেছে, এখন বাংলাদেশ, এখনো জলেশ্বরীরর কালিবাড়িরর পাশ দিয়ে গলিতে সে পল্লী রয়েই গেছে।' অনেক কিছুরই পরিবর্তন ঘটেছে সময়ের প্রেক্ষাপটে, কিন্তু জলেশ্বরীরর বেশ্যাপল্লীর নারীদের যাপিত জীবনে কোন পরিবর্তন ঘটে নি।
সৈয়দ শামসুল হকের 'নারীরা' (১৯৯৮) উপন্যাসের গল্প কথক ইদ্রিস চাচা বালকদের শুনিয়েছে; আর তারা বড় হলে ১৩৫০ সনের বিস্তারিত ঘটনা শুনেছে মকবুল ভাইয়ের নিকট থেকে। যে মকবুলের পরীক্ষায় নকল করা নিয়ে জনশ্রুতি ছিল- ম্যাট্রিক পরীক্ষার সময় যে কিনা পরীক্ষার হলে বেঞ্চের ওপর চাকু গেঁথে রেখে বই খুলে পরীক্ষা দিয়েছিল। উপন্যাসের এ ঘটনা সৈয়দ শামসুল হকের 'যুদ্ধ যুদ্ধ' (১৯৯৭) শীর্ষক নাটকে সোনা-রূপার করুণ জীবনগাথা চ্যাং ও ব্যাঙ চরিত্রের মাধ্যমে ব্যক্ত হয়েছে। ব্যাং-ব্যাঙ নাট্যঘটনায় সূত্রধরের ভূমিকা পালন করেছে। 'নারীরা' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় ঘটনা তিনজন পতিতাকে নিয়ে গড়ে উঠেছে। ভদ্র ভাষায় উপন্যাসে 'ভাতের দাসী' আখ্যায়িত করা হলেও এর পেছনে আছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মর্মান্তিক ইতিহাস। উপন্যাসের ঘটনায় অনিবার্যভাবে এসেছে, কীভাবে এবং কোন্ প্রেক্ষাপটে অধরচন্দ্র মাস্টারের দুই মেয়ে সোনা-রূপা 'ভাতের দাসী' হতে বাধ্য হয়েছিল। একালের ঘটনায় ঔপন্যাসিক সতীশের মৃতদেহ ঘিরে যে তিন নারীর মানবিকতাকে তুলে ধরেছেন, তারাও ভাতের দাসী; অর্থাৎ পতিতা।
গল্পের বক্তা ইদ্রিস চাচার শ্রোতারা অল্প বয়স্ক। তাদের শিশুমন 'ভাতের দাসী' বুঝতে না পারলেও তুলনা করতে পারে ঠিকই। তাদের গুরুজনরা সতীশের লাশের পাশে কান্নারত তিন নারীকে ভদ্রলোকের এ পাড়ায় অনুচিত প্রবেশের কারণে তিরস্কার করলে সতীশভক্ত শিশুরা ভাবে : 'তবে এরা ভদ্র নয়? আমরা ভালো করে তাকিয়ে দেখি তিন নারীকে। তাদের দেখে আমাদের মনে হয়, কই, এরা তো আমাদের মা খালাদের থেকে মোটেই অন্যরকম নয়!' বাংলা ভাষায় 'ভাতের দাসী' নামে যে শব্দটির প্রচলন আছে, তা দ্বারা দেহোপজীবীনীদের বোঝায়। ১৩৫০ সনের দুর্ভিক্ষে যেসব নারী দেহ বিক্রি করেছিল পেটের দায়ে তাদেরকে 'ভাতের দাসী' আখ্যায়িত করেছিল তৎকালীন সমাজ। এ জাতীয় বেশ্যাবৃত্তি প্রসঙ্গে ঔপন্যাসিক জানিয়েছেন : '[...] বেশ্যা যে হয় তারা নারী, তাদেরও তো ভুখ লাগে। ভুখের কাছে বেশ্যা কি সতী কিছু নয়। আগে জীবন, জীবন বাঁচিলে তবে তারপরে অন্য কথা হয়। ভাতের এ ভুখ আন্ধার করি দেয় চক্ষু।'
সতীশের লাশ নিয়ে কান্নারতা নারীদের ভদ্রপল্লীর শিশুরা দিদি সম্বোধন করলে তখন সমাজপতি পুরুষেরা সুখিয়া ধোবার ওপর চটে গেলে সে পুরুষবাদী প্রান্তিক কৃষক প্রতিনিধিদেরকে জানায় : '[...] দিদি তো বটে, বাবু! হামার দিদি। হামি মানুষের ময়লা কাপড় পরিষ্কার করি! এরাও ভি ময়ল পরিষ্কার করে। সমাজের সব ময়লা নিজেরা যতন করে দু'হাতে তুলে নিয়ে লুকায়ে রেখে সমাজ পরিষ্কার রাখে। তাই হামার দিদি হলো যে!' বলার অবকাশ নেই যে, সমাজের বাস্তবতা প্রসঙ্গে সতীশের বক্তব্যে বিন্দুমাত্র অতিরঞ্জন নেই। কারণ, পুরুষবাদী ভদ্র সমাজে এভাবেই যুগের পর যুগ নারীদের অবহেলা করা হচ্ছে। সতীশের কথায় সমাজপতি চটে গেলে সুখিয়া আরো তীর্যকভাবে ব্যঙ্গ করে : 'ঠিক কতা কইলে গোশা হন। এই দিদিরা না থাকিলে সমাজ চলে না, আবার এই দিদিরা যদি সমাজে বাহির হয় তখুন আপনাদের মাথায় খুন চাপ্যা যায়।'
সতীশের মৃতদেহ ঘিরে কান্নারত তিন নারী সম্পর্কে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ কি ধারণা পোষণ করে তা সৈয়দ হক প্রসঙ্গক্রমে উপন্যাসদেহে উপস্থাপন করেছেন : '[...] বেটিছাওয়া সকলে একজাত। বেটিছাওয়া পাছা দোলেয়া বুক ঝাকেয়া মনে করে দুনিয়া আছে পায়ের তলে, তারা যা খুশি তাই করিবার পারে!' পুরুষবাদী সমাজের প্রান্তিক প্রতিনিধির এ বক্তব্য নিন্দনীয় এবং নারীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে এ ব্যাপারে সন্দেহের অবকাশ নেই। তবে পুুঁজিবাদী সমাজের বিকৃতির ফলাফল হিসেবে রূপ সচেতন অনেক নারীই কামলোলুপ পুরুষের নিকট তাঁর দেহের চাহিদা সম্বন্ধে সম্যক ওয়াকিবহাল হলে তারা রূপ যৌবনকে উপজীব্য করে ওই পুরুষদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে প্রচলিত পুরুষতান্ত্রিক সমাজেও- এ ঘটনা অস্বীকার করা না গেলেও এ জাতীয় ঘটনার সংখ্যা খুব বেশি নয়। তবে সতীশের পাশে ক্রন্দনরতা তিন নারী সমাজের প্রথাগত নারীদের মতো অসহায় কিংবা দুর্বল চিত্তের নয়। এজন্য দেখা যায়, 'মাগীর দল' বলে তাদেরকে গাল দিলে প্রত্যুত্তরে তাদেরই একজন খুব স্পষ্ট ভাষায় ভদ্র সমাজের মুখোশ পরিহিত পুরুষদের জানিয়ে দেয় : 'কাকে কন মাগীর গুষ্টি? হামার ঘরে তো ঘুরি ঘুরি আসেন। আসেন না।' সমাজ বহির্ভূত নারীদের এমন ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণে ভদ্র পাড়ার এক পুরুষ নারী ত্রয়কে লাঠিপেটা করতে উদ্যত হলে নিমিষেই তার হাতের লাঠি কেড়ে নিয়ে পুরুষ প্রতিনিধিদের শারীরিক শক্তি সামর্থ্যের দম্ভকেও চূর্ণ করে দেয়।
প্রাইমারি স্কুলের অধরচন্দ্র মাস্টারের বড় মেয়ে সোনা। ভাতের ক্ষুধায় কাতর হয়ে তার পিতা মৃত্যুর আগে অথবা দুর্ভিক্ষ শুরু হওয়ার আগে মাস্টার তাকে নিজের জ্ঞানে গুণী করে তুলতে চেয়েছিল। কারণ, অধর মাস্টার বিশ্বাস করতো : 'নারীর জনম যে দুঃখের জীবন, সেই জনম হতে মুক্তির পথ আছে বিদ্যায়। অধর মাস্টার তার এই বেটিকে তাই বেটার মতো মানুষ করিতো। বিদ্যার সাথে সাথে দুনিয়ার সম্বাদও তাকে দিতো।' অধরচন্দ্র ধর এক অর্থে সভ্যতায় আলো বঞ্চিত এক প্রত্যন্ত পল্লী এলাকার মানুষ হয়েও মেয়েকে স্বাধীনতা এবং স্বনির্ভরতার শিক্ষা দিয়েছে। সমকালে নারীর জীবন বাস্তবতা যে অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও নির্মম ছিল তা মকবুলের কথায় অনুমান করা যায় : 'তারা জন্মিয়াই জানে কি ভীষণ জীবন নারীর এ জীবন।' অন্যদিকে তিন পতীতা নারী মৃত সতীশের সৎকারের ব্যবস্থা করলে ইদ্রিস চাচা যে অনুশোচনা করেছেন উপন্যাসে তার মধ্য দিয়ে বেরিয়ে এসেছে মুখোশধারী পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ভ-ামির চরম চিত্র : 'চিন্তা করিয়া না মুঁই কুল পাঁও। হামার ভাত মিটিলেও ভুখ মেটে নো হামার এমন জানোয়ার হামরা। আর ওই বেটিছাওয়াগুলোর কথা ভাবি দ্যাখেন গো, ভাতের দাসী তারা ভাতের জন্যে ইজ্জত দিয়াও জানোয়ার হয়া যায় নাই। মানুষের কথা ভুলি যায় নাই।' এজন্যই মকবুল ভাই পুরুষবাদী সমাজের একজন পুরুষ হিসেবে নিজেকে ধিক্কার দিয়েছেন এভাবে- এই হচ্ছে পুরুষতন্ত্র, এই হচ্ছে পুরুষের প্রকৃত চেহারা। পুরুষবাদী সমাজের প্রতিনিধি পুরুষরা নারীর জন্য, তাদের দেহের জন্য দৈহিক সুখ ভোগের জন্য পাগল। মকবুল ভাইয়ের আর্তযন্ত্রণা সেইসব পুরুষদের আছে- যারা নারীকে নিজেদের মতোই মানুষ মনে করে। অর্থাৎ পুরুষাবাদী সমাজের অংশ হয়েও যারা মনেপ্রাণে সমাজে নারী পুরুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা চিন্তা করেন, তারা মকবুল ভাইয়ের অন্তক্ষরণের সঙ্গী হন- তা বলার অবকাশ রাখে না।
দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের এক নির্মম স্মৃতি আজো রয়ে গেছে জলেশ্বরীতে : 'সেই দ্বিতীয় মহাযুদ্ধকালে জলেশ্বরীতে বেশ্যাপল্লী বসেছিলো, যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে, ইংরেজ চলে গেছে, পাকিস্তান হয়েছে, পাকিস্তানও শেষ হয়ে গেছে, এখন বাংলাদেশ, এখনো জলেশ্বরীরর কালিবাড়িরর পাশ দিয়ে গলিতে সে পল্লী রয়েই গেছে।' অনেক কিছুরই পরিবর্তন ঘটেছে সময়ের প্রেক্ষাপটে, কিন্তু জলেশ্বরীরর বেশ্যাপল্লীর নারীদের যাপিত জীবনে কোন পরিবর্তন ঘটে নি। আবার যুদ্ধের সময় হীরার মতো যৌবন ফেরী করা নারীর কতটা প্রয়োজন সেকথা গল্পের বিভূতিভূষণের কথায় অনুমান করা যায়। যুদ্ধের বাস্তবতায় পুরুষবাদী সমাজে বেশ্যাবৃত্তির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে বিভূতিবাবু বলে :
'এই যে জাপানে বৃটিশে যুদ্ধ হচ্ছে, এই যুদ্ধে তোমার অবদান কেউ অস্বীকার করতে পারবে? বলুক দেখি। আহা, কত মেম মায়ের সন্তান সব, আহা, কত কষ্ট করে বিলাত, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা থেকে সাতসমুদ্র পাড়ি দিয়ে যমের অরুচি এই আসাম সীমান্তে এসেছে যুদ্ধ করতে, ঘরের বউ ফেলে, কেউ রসিকা ছেড়ে, কেউবা প্রেমিকাকে কাঁদিয়ে। আহা, তুমি তাদের দেখেশুনে রাখছো। যুদ্ধের কত তেজ হচ্ছে।'
দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় কীভাবে পরিকল্পিতভাবে পতিতাপল্লী গড়ে তোলা হয়েছিল, তা উপরের ঘটনায় প্রতীয়মান হয়। এদিকে বিভূতিভূষণ চক্রবর্তী ওরফে ভূতিবাবু যখন হীরাকে খুশি করতেই হোক আর নিজের স্বার্থ বিবেচনা করেই হোক- তার পতীতা পল্লীর জন্য নারী সংগ্রহের লক্ষ্যে সোৎসাহে মাঝি পাড়া থেকে ফিরে এসে কোনো যুবতীকে না পেয়ে মাঝি পাড়ার কথা বছরদ্দির সামনে প্রকাশ করে তখন আমরা জানতে পারি- প্রথাগত পুরুষতন্ত্র এবং সামাজিক সংস্কারের আরেক ভয়ানক চিত্র : '[...] মাঝি পাড়ায় গিয়েছিলাম, গিয়ে দেখলাম সব উড়ো খবর ছিল। মরদগুলো দাওয়ায় পড়ে পড়ে ধঁকছে, আর বৌঝিগুলো গলায় দড়ি- ঝুলছে। উহ, কেন যে মেয়েগুলো নিজের ইজ্জতটাকে এত বড় করে দ্যাখে, মশাই।' ১৩৫০ সনের মন্বন্তরে জলেশ্বরীর সকলেই অন্নাভাবে পড়লেও বছরদ্দির পরিবার বুঝতে পারল না দুর্ভিক্ষ! হীরার জলেশ্বরীর হঠাৎ বড়লোক হওয়া বছরদ্দির কথোপকথনের সারসংক্ষেপে করে শোনায় মকবুল ভাই। যুদ্ধের সময় কিভাবে নিজ গ্রামেই নারী পরবাসী হয়, জাত কূল মান হারায় :
'নিজগ্রামের নারী ভাতের দুঃখে নিজগ্রামে পাড়ায় বসিলে সমাজের সম্মান চলি যায, সমাজের যে বড় মানুষ তার মাথায় পড়ে বাজ। হীরা তো সত্যই বলিচ্ছে রে, নিজগ্রামের নারী টাউনে বসিলে গ্রামের সমাজ মোটে চিলি্ল উঠিতো না, সমাজের বড় মানুষেরা তারে ঘরে রাইতে রাইতে যাইতো।'
ওপরের বক্তব্যে পুরুষবাদী সমাজের স্ববিরোধী ভূমিকার ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। বছরদ্দি গ্রামের হালের বড়লোক (ধনী অর্থে) হয়ে নিজ গ্রামের মান-ইজ্জত নিয়ে মাথা ঘামায় এবং তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায় গলা টিপে ধরে হীরার। হীরা খুন খুন বলে চিৎকার করতে শুরু করলে বছরদ্দি তাকে খুন করার কথাও বলে এবং হীরাকে শোনায় : 'বেশ্যা খুন করিলেও জেল নাই, ফাঁসী নাই। জরিমানা মোটে পাঁচসিকা।' বছরদ্দির এ কথার মধ্য দিয়ে প্রতীয়মান হয়, সমাজে মানুষ হিসেবে নারীর অধিকার কতটুকু ছিল। এ দিকে উপন্যাসের ঘটনার কথক মকবুল ভাই বছরদ্দির কথার অন্তর্গত সত্য প্রকাশ করে তার শ্রোতাদের নিকট এভাবে : 'তোদের কি স্মরণ হয়, চ্যাংড়াকালে আমরা খেলিতাম, ছড়া কাটিতাম? ধর চিকা মার চিকা চিকা দাম পাঁচসিকা। তবে এই পাঁচসিকা সেই পাঁচসিকা? বেশ্যা যে ভাতের জন্যে, ভাতের যে দাসী, সেই দাসী নারীর জীবন তবে চিকার সমান?' ভদ্র পাড়ার গৃহস্থ বাড়ির বৃদ্ধ পরবর্তী পর্যায় সমাজে নারীর অধিকার এবং সম্মানের স্থানটি আরো সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে বলে : 'পাড়ায় কি ঘরে, নারী নারীই হয়। নারীর গভ্ভে জন্ম ন্যান, সেই নারীর মাথায় লাঠি ধরেন তোমরা!'
পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীকে নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করে আবার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে তাকে নিক্ষেপ করে অাঁস্তাকুড়ে। সতীশের লাশের পাশে ক্রন্দনরতা নারীদের পরিচয় দিতে গিয়ে যে বর্ণনা দেয়া হয়, ঔপন্যাসিক ঠিক সেই বক্তব্য সমর্থন করতে পারেন না। তাই তিনি লেখেন : 'নষ্ট বেটিছাওয়া? এই তো একটু আগেই ইদ্রিসচাচা আমাদের বলেছেন, ওরা সকল ভাতের দাসী। এখন জ্যাঠা সাহেব বলছেন, নষ্ট বেটিছাওয়া! টিউবওয়েল নষ্ট হয়, ঘড়ি নষ্ট হয়, সাইকেল নষ্ট হয়, মেয়েমানুষ নষ্ট হয় করে?' নারী সমাজ সম্পর্কে পুুরুষবাদী সমাজের একজন প্রান্তিক প্রতিনিধি কৃষকের অভিব্যক্তির সাথে সৈয়দ হক নারীর যাপিত জীবনের চিত্রের শ্লেষ উপস্থাপন করেছেন অত্যন্ত শিল্পসফলভাবে।
যেমন :
'বেটিছাওয়া বলিয়া হামরা সব মাগী হয়া গেইছোঁ?'
'আরে, তোমাক কয় নাই।'
'শুনিলে না, কইলে যে বেটিছাওয়া সকলে একজাত।'
'ফির কইলে বুক পাছা দোলেয়া হামরা মনে করি দুনিয়া হামার পায়ের তলায়।'
'আরে, দুনিয়া যদি কারো বা অধীন তো ভাতের অধীন।'
'আর এই ভাতের অধীন বলি বেটিছাওয়া মুখ বুঁজি সব সহ্য করে।'
এখানে নারী কেন পুরুষের অধীনস্ত হয়ে তাদের অন্যায় অত্যাচার সহ্য করে করে তা প্রান্তিক কৃষাণী নারীর কথায় অত্যন্ত সরলভাবে উঠে এসেছে। পুঁজিবাদী সমাজে অর্থনীতির চাবিকাঠি পুরুষের হাতে; ফলে আর্থিকভাবে পরনির্ভর নারী সমাজ বাধ্য হয়ে পুরুষতন্ত্রের চাপিয়ে দেয়া অত্যাচার নির্যাতন মুখ বুজে সহ্য করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা কলরোল কোলাহল থেমে গেছে, পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক দুঃশাসন থেকেও বাঙালি জাতি মুক্তি অর্জন করেছে, এমনকি গত শতাব্দীর নব্বই সালে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেও স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্ত হয়েছে। তারপরও বাংলাদেশের নারী সমাজের ভাগ্যের উন্নয়ন যে ঘটেনি তা উপন্যাসে তুলে ধরে ঔপন্যাসিক জানিয়েছেন :
'দিনাজপুরের বাতাসে ইয়াসমিনের ক্রন্দন ভাসে।
সিলেটের বাতাসে নূরজাহান।
রিমির ক্রন্দন আছাড় খায় সড়কে সড়কে।'
অর্থাৎ নারী জাতিকে আজো বাঙালি সমাজে সম্মানের আসনে অথবা মানুষের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করা যায় নি। পুরুষবাদী বাঙালি সমাজের নির্মম নিষ্ঠুরতায় এখনো বাংলার নারীর ক্রন্দন ধ্বনি বাতাসে গুমরে বেড়ায়। ইতিহাসের পাতা ঘাটলে দেখা যায়, দুর্ভিক্ষ কিংবা মন্বন্তরে বা যুদ্ধের সময় সবচেয়ে ক্ষতির স্বীকার হয় নারী সমাজ।
উপন্যাসে সৈয়দ শামসুল হক বুঝিয়ে দিয়েছেন পঞ্চাশের মন্বন্তরের প্রেক্ষাপটে সোনা-রূপার যৌবন বিক্রি হয়ে যাওয়ার ঘটনার মধ্য দিয়ে আপদকালীন সময় কীভাবে নারী সমাজ লোভী পুরুষের ভোগ্য হতে বাধ্য হয়। যে পুরুষ বেকায়দায় ফেলে নারীর সর্বস্ব লুটে নেয়, কিংবা পতীতা পল্লীতে রাতের অন্ধকারে গিয়ে ফুর্তি করে আসে- তাদেরকে পল্লীর বাইরে বের হতে দেখলেই লাঠি হাতে রুদ্রমূর্তি ধারণ করে। কিন্তু ভাতের জন্য যৗবন বিকিয়ে দেয়া সেই নোরীরাই সতীশের মতো জ্ঞাতি পরিচয়হীন মানুষের শেষকৃত্যে উপস্থিত না হলে হয়তো তার লাশ শেয়াল শকুনের খাবার হতো।

http://www.jjdin.com/index.php?view=details&archiev=yes&arch_date=28-11-2011&feature=yes&type=single&pub_no=286&cat_id=3&menu_id=23&news_type_id=1&index=0

Appeal to visitor:
As you can see we do not have a cover page for this book and by any chance if you have the book and care send us a scanned copy of the cover then your contribution can enrich the site :)
 
Reader's Review
Add your own comment
  Quick Find: |A|B|C|D|E|F|G|H|I|J|K|L|M|N|O|P|Q|R|S|T|U|V|W|X|Y|Z|

© 2017 Boi-Mela
83/1 Laboratory Road , Dhaka - 1205, Bangladesh, Voice: +880 2 9131155, E-mail: info@boi-mela.com
1107, N. Forrest Avenue, Kissimmee, Florida - 34741, USA, Fax: +1 407 396 4913